First Day Experiences Of Cadet
Mehedi Zaman Khan, 23/1291


আমরা তখন ক্লাস সেভেনে। খায়বার হাউসে। গেমসের পরে এক দৌড়ে হাউসে এসে শাওয়ার রুমে সিরিয়াল দিতে হবে। সেভেন, এইট আর ক্লাস নাইনের আরও কয়েকজন মিলে প্রায় ৪০ জনের জন্য মাত্র ৪টা বাথরুম। ক্লাস নাইনের ডর্ম লিডারদের জন্য আবার ১ নম্বর বাথরুম booked. কলেজে যাওয়ার আগে থেকেই ফুটবল খেলতাম। তাই প্রিন্সিপাল বাংলোর পাশের মাঠ থেকে এক দৌড়ে আসতে পারতাম, কিন্তু আমাদের চিকনা (তখন বলতাম বাতাসীর মা) রায়হানের সাথে পেরে উঠতাম না। কখনো আবার হাউসের কাছে ইউক্যালিপটাস গাছগুলির পাশ দিয়ে ক্রস মেরে ফাস্ট হয়ে যেতাম।



যেভাবেই হোক ক্লাস এইটের আগে নামাজের জন্য ফল ইন করতেই হবে। মনোয়ার একটু😋 মোটা, দৌড়ে আসতে দেরী, যথারীতি ফল ইন এ দেরী এবং হান্ডস ডাউন। মাঝে মাঝে push up ও সাথে।😃 আমার লকার পার্টনার মেহের (তন্ময়) ভাই কেনো জানি আমাকে বেশি জ্বালাতন করতেন না। হয়তো দুজনই খুলনার বলে! কিন্তু আশরাফের লকার পার্টনার মাসুদ ভাই ছিলো খুব 'বদ'😋। তখনকার ছোট্ট আশু প্রতিদিনই hands down.



আগে এসেও শান্তি নাই, সেখানেও বিপদ। বড় ভাইয়েরা টাওয়েল পরে হাঁটবেন, আমরা দেখলে সমস্যা। খুরশীদ ভাই 'লুক দ্যাট সাইড' করিয়ে রাখলেন বা যে কেউই বলে দিলেন 'ক্লাস সেভেন হান্ডস ডাউন'। রইলাম হ্যান্ডসডাউন, হয়তো সে ভুলেই গেছে। 😢 কেউ হয়তো দয়া করে উঠালেন পরে।



হয়তো ক্লাস এইট হান্ডসডাউন, ক্লাস সেভেন 'লুক দ্যাট সাইড' - বড় ভাইয়েরা punishment পাচ্ছে শুনছি, কিন্তু দেখা যাবে না। আবার ক্লাস এইটের সাথে ক্লাস সেভেনও হ্যান্ডস ডাউন। আবার হয়তো সেভেন থেকে নাইন সবাই হান্ডস ডাউন।



সিনিয়র ভাইদের যে দেখতাম না, তাও না। ১৭ ইনটেকের হারুন ভাইদের খুবই অল্পদিন পেয়েছি, তখন চোঁখও ফোটে নাই, বাড়ি ছাড়ার ঘোরই কাটে নাই। ১৮ ইনটেক- মুসাব্বির ভাই, জামসেদ ভাই, আজমল ভাই, তারেক ভাই - মনে হতো এত্ত বড় হবো আমরা! বাশার ভাই, মুসাব্বির ভাই, পাশা ভাইকে তো শাওয়ারের পরে টাওয়েল ছাড়া দেখিই নাই। 😃 কেউ কেউ গান শুনাতেন। বাথরুমেও, বাথরুমের বাইরেও। যারা শোনাতেন তারা জানেন সবাই। সবচেয়ে উচ্চস্বরে প্রতিদিনই ইংলিশ গান গাইতে গাইতে বাথরুম থেকে সবার শেষে ডর্মে যেতেন পাশা ভাই। পাশা ভাইয়ের বাস্কেটবল খেলার খুব ফ্যান ছিলাম। ভেবেই পেতাম না, এতটুকু মানুষ ৬ ফিট ৩ ইন্চির জামশেদ ভাইয়ের সাথে কিভাবে খেলে।



মাঝে মাঝে হাউস প্রিফেক্ট তারেক ভাই, হান্ডস ডাউন থেকে তুলে দিতেন, আবার এসে কথাও বলতেন। খুব ভালো ভলিবল খেলতেন, একদিন তো আমাদের চ্যালেন্জ ছুড়লেন ভলিবল খেলার। আমরা ফুল টিম, আর উনি খেলবেন একা। শুক্রবারে খেলা হবে, আমরা জিতলে প্যাটিস, সন্দেশ আরও কি খাওয়াবেন। আমরা exited। খেলা শুরু হলো, পর পর তিন গেম হলো, আমরা ৬ জন মিলে কোনো গেমেই ৩/৪ পয়েন্টের বেশী পেলাম না। পুরাই হতাশ, আমাদের পেটিস, সন্দেশ খাওয়া হলো না। এখনো বাকি আছে, তারেক ভাই! হেরেছি তো কি হয়েছে, ছোটো ভাই না।



যাদের একটু দয়ামায়া বেশি ছিলো, তার বলতো about turn. আমরা উল্টা ঘুরে ডাইনিং পিছনের আমগাছ, আর ডাইনিং ক্লিনিং এর কাজ দেখতাম। আর অবাক বিশ্ময়ে প্রতিদিন দেখতাম শিয়াল আর কুকুরের সখ্যতা। আগে ধারনাই ছিলো না শিয়াল আর কুকুর একসাথে খাবার খায়, কুকুরও শিয়ালের ভয়ে পালাতে পারে। ওরা সন্ধ্যার আগেই পাশের গ্রামের আঁখক্ষেত থেকে চলে আসতো, ডাইনিং হলের ফেলনা খাবার খেতে। শিয়ালগুলিকেও তো মিস করছি, আমাদের জেসিসির শিয়াল তো! ❤